যশোরে ভাষা শহীদদের স্মরণে ৫ সহস্রাধিক মোমবাতি প্রজ্বালন

পাঁচ সহস্রাধিক মোমবাতির আলোয় উদ্ভাসিত হলো যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন চাঁদেরহাটে।

বুধবার সন্ধ্যায় শহীদ মিনারের পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। যশোরের শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ আলোর মিছিলে সমাবেত হন।

অন্ধকার থেকে আলোর পথে চলার প্রত্যয়ে সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। শুধু মোমবাতি প্রজ্বালন নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আল্পনা আঁকার দৃশ্য সমগ্র অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। সমগ্র অনুষ্ঠানে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

দ্বিতীয়বারের মতো এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য চাঁদেরহাট, যশোর পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অতিথিরা।

মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের চেতনা বুকে নিয়েই সত্তর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। এরপর অনেক চক্রান্ত ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু বাঙালি কখনো মাথানত করেনি।

তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি তার ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও চেতনাকে সংরক্ষণ করবে, এটাই আমি মনে করি।

যশোরে ভাষা শহীদদের স্মরণে ৫ সহস্রাধিক মোমবাতি প্রজ্বালন

যশোরে ভাষা শহীদদের স্মরণে ৫ সহস্রাধিক মোমবাতি প্রজ্বালন

স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় আমি মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। যশোর শহরকে ময়লামুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা। আপনার এই ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন।

জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, এই যশোর জেলার ইতিহাস আছে। বলা হয়, এটা প্রথম জেলা, প্রথম ডিজিটাল শহর, সাংস্কৃতিক জেলা। সেটাকে সংরক্ষণ করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। যারা সাংস্কৃতিকসেবী আছেন, তাদের জন্য স্থায়ী একটি সাংস্কৃতিক চর্চা করার জন্য একটি ভবন করার জায়গা নির্ধারণের অনুরোধ করছি। জেলা প্রশাসক একটি জায়গা নির্ধারণ করে দিলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ করে দেয়া হবে। যশোর যাতে সাংস্কৃতিক শহরের রূপ পায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল বলেন, বায়ান্ন সালে জাতীয়বাদের যে বীজ বপন হয়েছিল, একাত্তর সালে সেই বীজে গাছ জন্ম নিয়েছিল। সেই গাছকে ফুল ফলে সুশোভিত করার দায়িত্ব আমাদের। আমরা সুখীসমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নপূরণ করব।

যশোরে ভাষা শহীদদের স্মরণে ৫ সহস্রাধিক মোমবাতি প্রজ্বালন

যশোরে ভাষা শহীদদের স্মরণে ৫ সহস্রাধিক মোমবাতি প্রজ্বালন

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অমর শহীদ দিবস মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, ৬৫ বছরেও যশোরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছিল না। যশোর পৌরসভা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করেছে। এখানে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাবে। এটা খুবই গর্বের বিষয়। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এখানে অনুষ্ঠান করবে। নতুন প্রজন্ম ভাষা আন্দোলন ও শহীদ দিবস সম্পর্কে জানতে পারবে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে সোনার বাংলা গড়তে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন, গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, যশোর জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য, ইউসিবিএল ব্যাংকের আঞ্চলিক ইনচার্জ আক্তারুল আলম, ইউসিবিএল ব্যাংকের যশোর শাখার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান বাবলু।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর সরকারি এমএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তালেব মিয়া, সরকারি সিটি কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তোরাব মোহাম্মদ হাসান, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. এম হাসান সরোওয়ার্দী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নূর-ই-আলম, ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপাল কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, তির্যকের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ যশোর শাখার সভাপতি শ্রাবণী সুর, কলামিস্ট আমিরুল ইসলাম রন্টু, পুনশ্চর সভাপতি পিংকু রিতা বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পান্না লাল দে, শেকড়ের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাসু প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদেরহাটের সভাপতি রবিউল আলম ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এসএম আরিফ।

যশোরে ভাষা শহীদদের স্মরণে ৫ সহস্রাধিক মোমবাতি প্রজ্বালন

যশোরে ভাষা শহীদদের স্মরণে ৫ সহস্রাধিক মোমবাতি প্রজ্বালন

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল আল্পনা আঁকা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। তিনি নিজেই আল্পনা এঁকে উৎসাহ দেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে যশোরের ৬টি সাংস্কৃতিক সংগঠন গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- নৃত্যবিতান, ভৈরব, সুরবিতান, উদীচী, পুনশ্চ ও সুরধুনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *