বেশি বয়সে কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত কাজ করে এবং তারপর অবসরে যায়। অনেকে আছেন যাদের আর কাজ করতে ভালো লাগে না। আবার কিছু মানুষ আছেন শক্তিসামর্থ্য থাকার ফলে কাজ করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিয়মের কারণে তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর অবসর নিতে হয়, যা তাদের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এভাবে অবসর নেয়ার কারণে কাজ পাগল, ব্যস্ত মানুষটি হঠাৎ করেই কাজহীন হয়ে পড়ন। তাকে সারাদিন ঘরে বসে থাকতে হয়। মানুষজনের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। ফলে অনেকটা হতাশা ঘিরে ধরে তাকে। এই হতাশা ধীরে ধীরে তার মধ্যে ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিলোপ রোগের জন্ম দিতে পারে।

সারা বিশ্বে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে ভুগছেন। ফ্রান্সের একদল বিজ্ঞানী সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, দেরি করে অবসর নিলে ডিমেনশিয়া রোগীর সংখ্যা কমতে পারে। তারা বলছেন, কোনো ব্যক্তি যদি এক বছর বেশি কাজ করেন তাহলে তার ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩.২ শতাংশ কমে যায়।

প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের উপর জরিপ চালিয়ে এসব তথ্য জানতে পেরেছেন ফরাসি বিজ্ঞানীরা। যে কোনো বিচারেই এটা অনেক বড় একটা গবেষণা। ফলে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না এর ফলাফল। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে আলঝেইমার বিষয়ে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়।

ফ্রান্সে বর্তমানে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের সময়সীমা ৬৫ বছর। গবেষক দল বলছেন, চাকরিজীবীরা যতদিন চাইবেন ততদিন তাদের কাজ করতে দেয়া উচিত। কারণ এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

আপনার যদি মনে হয়, অবসরের পরেও আপনি যথেষ্ট কর্মক্ষম, কাজ করার মতো শারীরিক-মানসিক যথেষ্ট সক্ষমতা আপনার আছে, তবে ঘরে বসে থেকে নিজেকে নষ্ট করবেন না। পছন্দ অনুযায়ী কোনো একটা কাজ খুঁজে নিন। সেই কাজ করে আপনাকে আর্থিকভাবে লাভবান হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বড় কথা হলো, কাজটি আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। পথশিশুদের পড়ানো, বয়স্ক শিক্ষা- এধরনের সমাজ সেবামূলক কোন কাজ বেছে নিতে পারেন।

কোনো হস্তশিল্প তৈরির অভিজ্ঞতা থাকলে অবসরের দিনগুলোতে এখান থেকে আসতে পারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যও। আশেপাশের দরিদ্র মানুষকে এক করে সেসব তৈরির কৌশল শিখিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শেষ বয়সে উদোক্তা হয়ে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন সমাজকে। নতুন কিছু শেখার ইচ্ছে থাকলে এই সময়টাকে কাজে লাগান।

অলসভাবে দিন কাটিয়ে নিজেকে নষ্ট করবেন না। কর্মক্ষম থাকুন, সুস্থ থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *