প্রয়োজনীয় কিছু টিপস “লং ড্রাইভের আগে”

ছুটির দিনের ঘোরাঘুরি যেমন আনন্দের তেমনি মনকে নতুন করে চাঙ্গা করে কাজের জন্য তৈরি করতেও বেশ উপকারী। সারা সপ্তাহের ব্যস্ততার পর ছুটির দিনটিতে ঘরে বসে থাকতে ইচ্ছেই করে না। বিশেষ করে যারা ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন তারা তো একটু ফাঁক পেলেই বেরিয়ে পড়তে চান। আবার একদিনের ছূটিতে দূরে কোথাও যাওয়াও সম্ভব হয় না। তাই ছুটির দিনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাবার জন্য পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন লং ড্রাইভে। হুটহাট পরিকল্পনায় অন্য রকম মজা থাকলেও জম্পেশ লং ড্রাইভে যেতে দু-চারদিন সময় নিয়ে প্রস্তুতি নেয়াই ভালো।

১. যাত্রাপথ: লং ড্রাইভে যেতে চাইলে সকাল সকাল বের হতে চেষ্টা করুন। বের হওয়ার আগের দিন রাতে যেন পর্যাপ্ত ভালো ঘুম হয় সেটি অবশ্যই নিশ্চিত করুন। সকালে নাশতাও করে নিতে হবে ভরপেট। কারণ ভরপেট খাবার মনোযোগ বাড়ায় এবং শারীরিক অবসাদ দূরে রাখতে সহায়তা করে। ড্রাইভিংয়ের সময় প্রতি ২ ঘণ্টায় অন্তত একটি করে ব্রেক নিতে চেষ্টা করুন। ব্রেকের সময় গাড়ি থেকে নেমে কিছুদূর হেঁটে আসুন সবাই মিলে। যদি ড্রাইভিংয়ে দু’জন দক্ষ হন, তাহলে ভাগাভাগি করে ড্রাইভ করুন। যদি একাই বের হয়ে থাকেন, তবে হালকা মিউজিক বা রেডিও শুনতে পারেন। সেক্ষেত্রে গাড়ির জানালা সামান্য খোলা রাখুন। এতে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গেও যোগাযোগটা থাকবে।

২. ব্যাগ গোছান: লং ড্রাইভ একদিনের হলেও সবার জন্য দু-এক সেট বাড়তি কাপড় সঙ্গে রাখুন। রোদের প্রকোপ থেকে রেহাই পেতে সানগ্লাস ও হ্যাট সাথে রাখুন। ঋতু অনুযায়ী ব্যাগে থাকবে সানস্ক্রিন, রেইনকোট অথবা বাড়তি শীতের কাপড়। আরো রাখুন তোয়ালে, ময়েশ্চারাইজার, হ্যান্ডওয়াশ অথবা লিকুইড সোপ।

৩. খাবার: লং ড্রাইভের ক্ষেত্রে খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যথেষ্ট ড্রাই ফুড ও পানি সাথে রাখবেন। শক্তি বৃদ্ধিতে সঙ্গে রাখতে পারেন কয়েক রকমের বাদাম ও স্যালাইন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন রাস্তার কেনা খাবার যেন খেতে না হয় এতে পেট খারাপের সম্ভাবনা থাকে যা ভ্রমণের জন্য খুবই মারাত্মক। লং ড্রাইভের ক্ষেত্রে একবারে অনেক না খেয়ে বার বার খেতে চেষ্টা করুন।

৪. গাড়ির দিকে নজর দিন: লং ড্রাইভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি হল গাড়ি। অবশ্যই যে গাড়ি নিয়ে ভ্রমণে যাবেন সেটির প্রতি যত্নবান হন। গাড়ি মেরামতের ছোট খাট যন্ত্রাংশ সাথে নিয়ে নিন। গাড়ির যাবতীয় সকল প্রকার কাগজপত্র সাথে নিন। আগের দিনই গাড়িরে সমস্ত কিছু ঠিক আছে কিনা দেখে নেবেন।

৫. অন্যান্য: গাড়ির পেছনে কয়েকটি কুশন ও বেডশিড নিয়ে নিন। সম্ভব হলে রাখুন একটি ছোট বালিশ। এতটা পথ ঘুরে বেড়িয়ে ক্লান্তি লাগলে যেন বিশ্রাম নেয়া যায়। ছোট একটি ব্যাগে ভরে নিন ফোন চার্জার, টর্চ লাইট, পকেট ছুরি, ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক ও কটনবল। আরো থাকবে ব্যথানাশক ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ। নিজের জরুরি মোবাইল নাম্বারগুলো আলাদা করে লিখে রাখতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *