ডিজাইনারদের জন্য নভেম্বর-ডিসেম্বরে বায়ার ধরার স্পেশাল টিপস

এ দু’মাসেই বছরের সবচেয়ে বেশি ইনকামের পরিকল্পনা করে সবাই। কারণ এ দু’মাসে আমেরিকা এবং ইউরোপের রাস্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে। তাই আপনাদেরও উচিত, সেই অর্থের কিছু অংশ নিজের পকেটে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা।

বাজারের অবস্থা বুঝে মার্কেটিং করতে হয়। এ দু’মাসের মার্কেটের অবস্থা বুঝে মার্কেটিং পরিকল্পনা সাজিয়ে মার্কেটিং করুন। আগামী দু’দিন এ পরিকল্পনাটা তৈরি করে ফেলুন।

এরপর ঝাপিয়ে পড়ুন। নভেম্বর ২০-২৮ তারিখ সবচেয়ে বেশি আপনাদের ডিমান্ড থাকবে। সারামাসেই ডিমান্ড থাকবে। কিন্তু ২০-২৮ তারিখ বেশি থাকবে।

আপনার পরিকল্পনাগুলো সাজাতে কিছু আইডিয়া দিচ্ছি, যা পরিকল্পনা করতে সহযোগীতা করবে।

♦ কারা হতে পারে এ দু’মাসে আপনার সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট?

– মনে রাখবেন এ দু’মাসে নতুন করে বিজনেস স্টার্ট করবে এ টাইপ ক্লায়েন্টের সংখ্যা কমে যাবে। কারণ এ দু’মাসে বিজনেস করার টার্গেট করেই জুলাই, আগস্টের দিকে নতুন বিজনেসগুলোর জন্ম হয়ে যায়। তাই নতুন বিজনেস স্টার্টে যা যা ডিজাইন দরকার। এ টাইপ ডিজাইনে কাজের চাহিদা কম থাকবে। অর্থাৎ লোগো ডিজাইন, বিজনেস কার্ড ডিজাইন এগুলোর চাহিদা কম থাকবে।

– এ সময়ে সকল বিজনেস প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি বৃদ্ধির জন্য আলাদাভাবে মার্কেটারদের হায়ার করে। সেই মার্কেটাররা এ মাসে সেল বুস্ট করার জন্য সুন্দর সুন্দর ডিজাইন করার জন্য লোক খুঁজে থাকে। তাই সেই সব মার্কেটারদের টার্গেট করেই আপনার মার্কেটিং পরিকল্পনা সাজাতে হবে। মার্কেটাররা কোথায় অবস্থান করে সেই সব জায়গাতে আপনার বায়ার খুঁজতে হবে এবং সেই সঙ্গে সেই সব মার্কেটারদের অ্যাটেনশন তৈরির পরিকল্পনা করতে হবে।

– বছরের এ দু’মাসটাতেই সবচেয়ে বেশি উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। তাই উপহার দেওয়ার মত আইটেম ডিজাইন করার পরিকল্পনা করতে হবে। এবং এগুলোর সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিশাল বাজার থেকে নির্দিষ্ট একটা ক্রেতা শ্রেণীকে টার্গেট করে আপনার মার্কেটিং পরিকল্পনা সাজানো জরুরী।

– মার্কেটপ্লেসগুলোতেও এ সময় প্রমোশনাল ডিজাইন কিংবা গিফট ডিজাইন টাইপ ইমেজের চাহিদা বেড়ে যাবে। তাই এ টাইপ ডিজাইনে আপনার দক্ষতা প্রকাশ করার মত বিষয়গুলো নিয়ে আাপনার মার্কেটপ্লেসের প্রোফাইল রেডি করুন। আর ফাইভারে গিগ তৈরির ক্ষেত্রেও এ টাইপ গিগ প্রস্তুত করুন। প্রমোশনাল ইমেজের গিগ তৈরি করলে, সেখানে ব্লাক ফ্রাইডে উপলক্ষ্যে ডিসকাউন্ট অফার, এ টাইপ ডিজাইনগুলো গিগ ইমেজ গ্যালারীতে রাখুন। এটুকুই চেষ্টা করুন, ভাল কিছু বায়ার ধরতে পারবেন। হয়ত, এ বায়াররাই পরে সারা বছরের জন্য আপনার বায়ার হয়ে যাবে।

♦ প্রমোশনের জন্য কিছু আইডিয়া শেয়ার

– পিন্টারেস্টে বিভিন্ন প্রোডাক্টের ডিসকাউন্ট অফার টাইপ ডিজাইনগুলো করে সেগুলো বেশি বেশি আপলোড করুন।

– ইউটিউবের জন্য ডিসকাউন্ট অফার টাইপ ডিজাইনের এবং গিফট আইটেম টাইপ ডিজাইনের টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করতে পারেন।

– নিজের করা বিভিন্ন ডিসকাউন্ট অফার টাইপ ডিজাইন এবং গিফট আইটেম টাইপ ডিজাইনগুলো নিয়ে ইমেজ পোর্টফলিও তৈরি করে সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারেন।

– বিভিন্ন মার্কেটারদের আড্ডাতে ডিজাইনার হিসেবে আপনার স্কীলের প্রতি অ্যাটেনশন তৈরির জন্য কোন উদ্যোগ নিতে পারেন। অ্যাটেনশন তৈরি করতে গিয়ে বিরক্তি যাতে তৈরি না হয়, সেদিকটাতে নজর রাখা জরুরী।

– বিভিন্ন গেস্ট ব্লগিং সাইটের জন্য মার্কেটারদের অ্যাটেনশন পাওয়ার মত করে কোন আর্টিকেল লিখে পোস্ট করতে পারেন। আজকের মতো এটুকু টিপস দিয়ে শেষ করলাম। এবার মাথা খাটিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *