গুড আগলি অ্যান্ড ব্যাড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

যন্ত্রের স্বয়ংক্রিয়তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক প্রযুক্তি বিপ্লবের সর্বশেষ সেরা উদ্ভাবনটির ভালো-খারাপ দিকগুলো কেমন, জানা যাক।বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জয়জয়কার। আগামী দিনের প্রযুক্তিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর হবে এটা অনুমেয়। সম্প্রতি শুরু হওয়া কনজুমার ইলেট্রিনিকস শোতেও এমন প্রযুক্তির প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে।প্রতিদিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রচুর ডেটা সংগ্রহ করা হচ্ছে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশিক্ষিত করার জন্য। উদাহরণ স্বরূপ, গুগল ফটোজের ব্যবহারকারী হলে খেয়াল করবেন আপনার একই ধরনের সব ছবিকে অ্যাপটি আলাদা করে অ্যালবাম বানিয়ে দিচ্ছে, ভিডিও বানাচ্ছে বা কোলাজ করে দিচ্ছে।এটি সম্ভব হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কোটি কোটি ছবির মাধ্যমে অ্যাপটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে। এখন অ্যাপটি ছবি পেলেই বুঝে যায় এটি কিসের ছবি বা কেমন ছবি।গুগল ফটোজের মতো হাজারো অ্যাপ নিজেদের প্রশিক্ষিত করছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে। ধারণা করা হচ্ছে এআই অ্যালগরিদমগুলোকে প্রশিক্ষত করতে ডেটা সংগ্রহের জন্য চলতি বছরে যত্রতত্র সেন্সর দেখা যাবে। এতে মানুষের জীবন ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয়তার দিকে ঝুঁকবে।এর যেমন ভালো দিক আছে, রয়েছে খারাপ দিকও। অনেকেই বলছেন, প্রযুক্তি যত বুদ্ধিমান হচ্ছে- ততই সত্য ও অসত্যের ব্যবধানটা কমে আসছে।

ভুয়া ভিডিও
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উৎকর্ষের ফলে ভুয়া খবরের একটি জোয়ার আসবে বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিপফেইক প্রযুক্তি বিশ্বে বেশ আলোচিত এখন। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন মানুষের মুখকে নকল করে ফেলা যায় খুব সহজে। সেই সঙ্গে পাল্টে দেওয়া যায় তিনি কী বলেছেন।‘নেস্তার’ ডেটা সায়েন্টিস্ট কাটজা বেগো মনে করেন ২০১৯ সালে ডিপফেইক ভিডিও ছড়িয়ে পড়বে। প্রযুক্তিটি নতুন হলেও বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।বিশ্বব্যাপী ভুয়া খবর ও গুজব একটি মারাত্মক সমস্যার নাম। ডিপফেইক প্রযুক্তি সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলবে মনে করেন এই গবেষক।কিছুদিন আগে চীনে জিনহুয়া নিউজ এজেন্সি এআই রোবটের মাধ্যমে খবর পড়েছে। একজন খবর পাঠকের চেহারাকে এমনভাবে নকল করা হয়েছিলো যে খালিচোখে ব্যবধান বোঝা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এর মাধ্যমে সত্য ও অসত্যের মধ্যকার রেখাটি আরও অদৃশ্য হয়ে পড়বে। মানুষ যদি নিজের চোখে যা দেখছে, সেটিকেই বাস্তব বলে বিশ্বাস করতে না পারে তা আদতে কোনও ভালো ফল বয়ে আনবে না। এর ফলে বাস্তবই শেষ হয়ে যেতে পারে।

নতুন ধরনের আক্রমণ
এআই নতুন এক ধরনের ডিজিটাল নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ভুল মানুষের হাতে এ ধরনের প্রযুক্তি হ্যাকিংয়ের নতুন ধারার জন্ম দেবে।এমন অনেক এআই বট তৈরি করা হবে যেগুলো একটি কোম্পানির সিস্টেমে নীরবে বসে থাকবে ও ডেটা পাঠাতে থাকবে।ডেটা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিমালটোর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা জেসন হার্ট অনুমান করেন চলতি বছরে একটি বড় কোম্পানি এমন হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারে। এসব এআইকে মোবাবেলা করতে হবে এআই দিয়েই। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন ডিজিটাল নিরাপত্তায় মানুষের চেয়ে মেশিনের ভূমিকা বেশি হবে।

স্বাস্থ্যকর জীবন
এআই নিয়ে এমন আশংকার পাশাপাশি আছে অমিত সম্ভাবনাও। বর্তমানে প্রতিনিয়ত হেলথ ট্র্যাকার ডিভাইসগুলো প্রচুর ডেটা সংগ্রহ করছে। যেগুলো পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও আগাম বলে দেওয়া সম্ভব হবে।ইনফোসিস কনসাল্টিংয়ের জন জিকোপলাসের অনুমান মতে, ২০২০ সাল নাগাদ প্রতি তিন জনে দু’জন রোগী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করবেন।ভার্চুয়াল চিকিৎসক ও চ্যাটবটগুলো চিকিৎসা সেবা দেওয়া শুরু করতে পারে। আগামী দিনে আপনার অ্যাপল ওয়াচই ক্যান্সারের আশংকা জানিয়ে দিতে পারবে।ডেটা নির্ভর হেলথকেয়ার পদ্ধতিতে মানুষ আগাম রোগ-প্রতিরোধ করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *