গাইবান্ধার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ভর্তি ফি নিচ্ছে

গাইবান্ধায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভর্তি ফি’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বোর্ড নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও আছে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বছরের পর বছর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে, অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েই দায় সারছেন।

গাইবান্ধা সদরের হরিণসিংহা গ্রামে বেসরকারি সংগঠন এসকেএস ফাউন্ডেশন পরিচালিত এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি ফি হওয়ার কথা ৫০০ টাকা। সেখানে নতুন ভর্তির জন্য সাড়ে সাত হাজার আর পূনঃভর্তির নামে পাঁচ হাজার টাকা নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় সাত হাজার টাকা ভর্তি ফি এবং মাসিক বেতন সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা। শিক্ষা নীতিমালার কোনো পরিপত্রই স্কুল কর্তৃপক্ষ মানছে না।’

অন্যদিকে শহরের আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আহম্মদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজে নীতিমালা অনুযায়ী, দুই হাজার টাকা ভর্তি ফি হলেও তারা আদায় করছে ছয় হাজার ৪৭৫ টাকা।

শুধু তাই নয়, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বোর্ড নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও আছে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

তবে প্রতিষ্ঠানের কর্তারা বলছেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় এনে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এখানে শিক্ষার মান, অন্যান্য বিষয়, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা- এগুলো প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যয়ে করছে।’

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার এনায়েত হোসেন এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

আর ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও কিন্ডারগার্টেনের নীতিমালা না থাকায় ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা বলে অজুহাত দেখালেন গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী।

বেসরকারিভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নেয়ার সময় সরকারের সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলার অঙ্গীকার করলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে তেমন তদারকি নেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *